সমসাময়িক ও আধুনিক মাসআলা-মাসায়েল এবং ৮ই জিলহজ থেকে ১২ই জিলহজ পর্যন্ত পবিত্র হজ পালনের পূর্ণাঙ্গ ধারাবাহিক গাইডলাইন।
বিমানযাত্রা, হাইস্পিড হারামাইন ট্রেন, ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ও দলীলভিত্তিক সমাধান।
৮ই জিলহজ থেকে ১২ই জিলহজ পর্যন্ত হজ সম্পাদনের ধারাবাহিক প্রতিটি রুকন ও আমল বিস্তারিত দেওয়া হলো।
গোসল করে পুরুষরা দুটি সাদা সেলাইবিহীন চাদর পরিধান করবেন এবং মহিলারা শালীন পোশাক পরবেন। এরপর দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করে হজের নিয়ত করবেন ও ৩ বার তালবিয়া পাঠ করবেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أُرِيدُ الْحَجَّ فَيَسِّرْهُ لِي وَتَقَبَّلْهُ مِنِّي (আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল হাজ্জা ফায়াসসিরহু লি ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি)
৮ই জিলহজ জোহরের পূর্বেই তাঁবুর শহর মিনায় পৌঁছানো সুন্নত। মিনায় ৮ই জিলহজ জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং ৯ই জিলহজের ফজর সহ মোট ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ও রাত্রিযাপন করা সুন্নত।
মিনায় অবস্থানকালীন সময়ে বেশি বেশি তালবিয়া, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির আজকারে মশগুল থাকা উচিত।
৯ই জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। জোহরের ওয়াক্ত শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধানতম ফরজ (রুকন)। এখানে জোহর ও আসর নামাজ একসাথে বা নিজ নিজ সময়ে আদায় করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কান্নাকাটি ও দোয়ায় মশগুল থাকতে হবে।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
সূর্যাস্তের পর মাগরিব নামাজ না পড়ে আরাফাত থেকে মুযদালিফার দিকে রওয়ানা হতে হবে। মুযদালিফায় পৌঁছে একই আযানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসাথে আদায় করতে হবে। এরপর খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। এখান থেকেই জামারাতের জন্য কঙ্কর (পাথর) সংগ্রহ করতে হবে।
মুযদালিফায় মাশআরুল হারামের নিকট দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় দোয়া করা মোস্তাহাব।
১০ই জিলহজ ফজর নামাজ পড়ে সূর্যোদয়ের পূর্বে মুযদালিফা থেকে মিনায় ফিরে আসবেন। এরপর শুধুমাত্র বড় শয়তানকে (জামারাতুল আকাবা) ৭টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। প্রতিটি কঙ্কর মারার সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে। প্রথম কঙ্কর নিক্ষেপের সাথে সাথে তালবিয়া পাঠ বন্ধ হবে।
بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُ أَكْبَرُ رَغْمًا لِلشَّيْطَانِ وَرِضًا لِلرَّحْمَنِ
কঙ্কর নিক্ষেপের পর তামাত্তু ও কিরান হাজীদের জন্য কুরবানি করা ওয়াজিব। কুরবানি সম্পন্ন হওয়ার পর পুরুষরা মাথার চুল সম্পূর্ণ চেঁছে ফেলবেন (হলক) অথবা সমানভাবে ছোট করবেন (কসর)। মহিলারা চুলের অগ্রভাগ থেকে ১ কর (আঙ্গুলের এক গিরা) পরিমাণ কাটবেন। এর মাধ্যমে ইহরামের অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা সমাপ্ত হয় (প্রথম তাহাল্লুল)।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ وَالْمُقَصِّرِينَ
মক্কায় গিয়ে কাবার তাওয়াফে যিয়ারত করা হজের দ্বিতীয় ফরজ রুকন। এরপর সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে ৭ চক্কর সাঈ সম্পন্ন করবেন। এরপর হাজীদের উপর স্ত্রীর সান্নিধ্য সহ ইহরামের সকল নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত হয়।
তাওয়াফের প্রতি চক্করে হাজরে আসওয়াদ বরাবর বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে ইস্তিলাম করবেন।
মিনায় অবস্থান করে প্রতিদিন জোহরের পর ছোট, মধ্যম ও বড় তিনটি জামারায় ধারাবাহিকভাবে ৭টি করে মোট ২১টি পাথর নিক্ষেপ করতে হবে। ১২ই জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করা জায়েজ।
প্রতিটি জামারায় পাথর মেরে কিছুটা সরে এসে কিবলামুখী হয়ে দুআ করা সুন্নত।
বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তনের পূর্বে মক্কা ত্যাগের ঠিক আগে বহিরাগত হাজীদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ করা ওয়াজিব। এর মাধ্যমে হজের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
বিদায়ী তাওয়াফ শেষে মুলতাজাম ও কাবার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দোয়া করবেন।