মহিলাদের জন্য গাইরে পরপুরুষের ভিডিও ওয়াজ, নাশিদ শোনা যাবে কিনা?
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, উম্মেসালামা ও মাইমুনা রাঃ কে নবী করীম সাঃ উম্মে মাকতুম রাঃ থেকে পর্দা করতে বললেন ফলে বুঝা যায় কোন মহিলার জন্য পরপুরুষের দিকে স্বাভাবিকভাবে তাকানো উচিত না আমরা যারা ওয়াজ নাশিদ শুনে থাকি তাদের প্রতি তাকানোর কারণে কি গুনাহ হবে?তাদের কন্ঠস্বর শুনাই বা কতটুকু জায়েজ?
ম
উত্তর দিয়েছেন মুফতী আবু সাঈদ
বিজ্ঞ আলেম
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনার বর্ণিত হাদীসটি তিরমিযী শরীফে বর্ণিত হয়েছে।
সম্পূর্ণ হাদীসটি নিচের লিংক থেকে দেখে নিতে পারেন,
https://muslimbangla.com/hadith/32423
এ হাদীসের কারণে অনেক ওলামায়ের কেরাম মহিলাদের জন্য গাইরে মাহরাম পুরুষের দিকে তাকানো নাজায়েয বলেছেন।
এ মতের স্বপক্ষে আরো দলিল দেওয়া হয় সূরা নূরের ৩১নং আয়াত। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন,
وَقُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنٰتِ یَغۡضُضۡنَ مِنۡ اَبۡصَارِہِنَّ وَیَحۡفَظۡنَ فُرُوۡجَہُنَّ
অর্থ: এবং মুমিন নারীদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। [সূরা নূর, আয়াত নং ৩১]
অপরদিকে অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম বলেন যে, যদি ফেতনার আশঙ্কা না থাকে তাহলে মহিলাগণ গাইরে মাহরাম পুরুষের দিকে তাকানো জায়েয আছে। তবে গাইরে মাহরাম পুরুষের দিকে না তাকানো উত্তম। বিশেষ করে বর্তমানে ফেতনার যুগে গাইরে মাহরাম পুরুষের দিকে তাকানো থেকে বেচে থাকা কাম্য। আর ফেতনার আশঙ্কা থাকলে বা তার প্রতি আকর্ষিত হওয়ার বা বাজে চিন্তার আসার আশঙ্কা থাকে তাহলে তাকানো জায়েয হবে না।
এ মতের স্বপক্ষে বুখারী শরীফের নিচের হাদীসটি দ্বারা দলিল পেশ করা হয়,
আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... উরওয়া, আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদিন হাবশীরা তাদের বর্শা নিয়ে খেলা করছিল। রাসূল (ﷺ) আমাকে নিয়ে পর্দা করে তার পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমি সেই খেলা দেখছিলাম। যতক্ষণ আমার ভাল লাগছিল ততক্ষণ আমি দেখছিলাম। এরপর আমি স্বেচ্ছায় সে স্থান ত্যাগ করলাম। সুতরাং তোমরা অনুমান করতে পারলে যে, অল্প বয়স্কা মেয়েরা কি পরিমাণ আমোদ-প্রমোদ পছন্দ করে।
মুসলিম শরীফের হাদীসে আছে, হযরত ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযি.) কে আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মু মাকতুম (রাযিঃ) এর বাড়ীতে গিয়ে ইদ্দত পালন করতে বলেছিলেন। কেননা সে একজন অন্ধ মানুষ। পর্দার সমস্যা হবে না।
পুরষের দিকে তাকানো জায়েয না হলে তাকে ঐখানে ইদ্দত পালন করতে বলতেন না।
সম্পূর্ণ হাদীসটি নিচের লিংক থেকে দেখে নিতে পারেন,
https://muslimbangla.com/hadith/10612
এ সকল হাদীস থেকে গাইরে মাহরাম পুরুষের দিকে তাকানো বৈধতা বুঝে আসে।
এবং এই ২য় মতটিই বেশি গ্রহণযোগ্য।
দৃষ্টি অবনত আয়াতের ব্যাখায় বলা হয় এর দ্বারা উদ্দেশ্য কুদৃষ্টি বা কামনার দৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকা। যদি দৃষ্টির মধ্যে কোনো প্রকার অশ্লীলতা বা কু-প্রবৃত্তি না থাকে, তবে তা এই আয়াতের পরিপন্থী নয়।
উম্মে সালামা ও মাইমুনা রাযি. কে রাসূল স. নিষেধ করেছেন এর দ্বারা ব্যাখ্যা হলো, যেটা উত্তম সেটা করতে বলেছেন। অযাথা গাইরে মাহরামের দিকে তাকানো বেঁচে থাকা উচিত সেটাই বুঝানো হয়েছে। তাঁদেরকে উচ্চ তাকওয়া ও সতর্কতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন।
সারকথা হলো, ভিডিও দেখা বৈধতা থাকলেও বর্তমান যুগের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় সতর্কতা অবলম্বন করা এবং অহেতুক দৃষ্টি থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
অতএব ভিডিও না দেখে অডিও ওয়াজ বা নাশিদ শোনাই ভালো হবে।
অডিও ওয়াজ নসিহাত শুনতে পারে, সমস্যা নেই।
والله اعلم بالصواب