AL-MARKAJ GIRLS CAMPUS
ইসলামি নববর্ষ

মুহাররম ও আশুরা : গুরুত্ব ও ফজিলত

17 June, 2026
2 মিনিট পাঠ
মুহাররম ও আশুরা : গুরুত্ব ও ফজিলত
 

মুহাররম, হিজরি বছরের প্রথম মাস এবং ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এ মাস অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে দিন-রাতের পরিবর্তন এবং সময়ের আবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। তাই একজন মুসলিমের উচিত সময়ের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং নেক আমলে নিজেকে ব্যস্ত রাখা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) মুহাররম মাসের রোজার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ

أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ

অর্থঃ “রমজানের পর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা।”

মুহাররম মাসের ১০ তারিখকে আশুরার দিন বলা হয়। এ দিনের রোজার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন :

"আশুরার দিনের রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেন।"

আশুরার রোজার পাশাপাশি ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য এড়ানোর জন্য ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। এ মাসে বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার, নফল রোজা ও অন্যান্য নেক আমল করা উচিত।

তবে মুহাররম মাসকে কেন্দ্র করে সমাজে কিছু কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতি প্রচলিত রয়েছে। যেমন তাজিয়া, মাতম, শোক মিছিল এবং বিভিন্ন ধরনের রসম-রেওয়াজ। ইসলামে এসবের কোনো ভিত্তি নেই। রাসূলুল্লাহ (সা.) শোক প্রকাশের নামে অতিরঞ্জিত আচরণ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

সুতরাং, মুহাররম ও আশুরার প্রকৃত শিক্ষা হলো আল্লাহর আনুগত্য করা, সময়ের মূল্য বোঝা, নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা এবং সকল প্রকার কুসংস্কার ও বিদআত থেকে দূরে থাকা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এ মাসের ফজিলত অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

লুবাবাহ শিকদার

মুতাওয়াসসিতাহ ১ম বর্ষ (মিযান)