আল ইমামুল আজম আবু হানিফা আন-নোমান
আবু হানিফা রহ.-এর
তাকলিদ কেন করব?
দ্বীনি বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে মৌলিকভাবে একমাত্র আল্লাহরই আনুগত্য করা মানুষের জন্য অপরিহার্য। আর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও আমরা মৌলিকভাবে অনুসরণ এজন্য করি যে, তিনি আল্লাহ তাআলার বিধানাবলি তার জীবনের প্রতিটি কাজেকর্মে বাস্তবায়ন করেছেন। আর তিনিই হলেন জীবন্ত কুরআনুল কারীম। কুরআন-হাদিসের এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা বাহ্যিকভাবে খুবই সংক্ষিপ্ত ও পরস্পর বিরোধী বলে মনে হয়। এসব ক্ষেত্রে এমন জটিলতা থেকে উত্তরণের একমাত্র নিরাপদ পথ হলো, এসব বিষয়ে আমাদের পূর্বসুরী সাহাবি ও তাবেয়িগণ কী বলেছেন ও বুঝেছেন! তা বুঝা ও এরপর তাদের কর্মপন্থা অনুযায়ী আমল করা। কারণ তারা হলেন এই উম্মতের সবচেয়ে বড় জ্ঞানী। কুরআন-হাদিসে তাদের স্বকীয়তা ও পরিপক্কতার নজির অন্য কারো মধ্যে পাওয়া যায় না। কারণ তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই অবতীর্ণ হয়েছে পবিত্র কুরআন। তারাই কুরআন অবতরণ কালীন প্রেক্ষাপট, পরিবেশ ও ঘটনাবলীর ধরণ ও বাস্তবরুপ উপলব্ধি করেছেন।
কুরআন-হাদিসের ওইসব বিষয়েই কেবল তাকলিদ হয়ে থাকে, যেগুলো বুঝতে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়। এই জটিলতার বিভিন্ন কারণ হতে পারে। যেমন, একাধিক অর্থের অবকাশ থাকা, ইজমাল তথা অতি সংক্ষিপ্ততার পথ অবলম্বন করা বা শরিয়তের অন্য কোনো দলিলের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ হওয়া ইত্যাদি। উল্লিখিত বিষয়াদি ছাড়া জটিলতা নেই, এমন সকল স্থানে কোনো ইমামের তাকলিদ করার প্রয়োজন নেই। সুতরাং সর্বসম্মত ও স্পষ্ট দ্বীনী বিষয়, যেমন নামায, রোযা, হজ্ব ও যাকাত ইত্যাদি ফরয হওয়া এবং চুরি, ডাকাতি ও ব্যাভিচার ইত্যাদি হারাম হওয়ার বিষয়ে ইমাম চতুষ্টয়ের কারো তাকলিদ করার প্রয়োজন নেই। শরিয়তের যেসব বিধি-বিধান সূক্ষ্মদৃষ্টি ও গভীর চিন্তা-গবেষণা ব্যতীত বোঝা সম্ভব নয়, কেবল সেসব ক্ষেত্রে না জানলে অন্যকে জিজ্ঞেস করে তাকলিদ করতে হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ
যদি তোমরা না জানো, তাহলে যারা জানে, তাদেরকে জিজ্ঞেস করো। [আন-নাহল: ৪৩]
আরও ইরশাদ হচ্ছে- أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَي اللهُ فَبِهُدْهُمُ اقْتَدِة
এদেরকেই আল্লাহ তা'আলা হেদায়েত দান করেছেন। সুতরাং তুমি তাদের হেদায়েতেরই অনুসরণ করো। [আনআম: ৯০]
আমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা ফিকহে ইসলামিকে শরিয়ত তথা কুরআন-হাদিস থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে। অথচ কুরআন-হাদিসের সুস্পষ্ট বিধি-বিধানের বিন্যস্ত সংকলন এবং অস্পষ্ট বিধানসমূহের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও সুবিন্যস্ত রূপকেই ফিকহে ইসলামি বলে। তাই বলা যায় ফিকহে ইসলামি কুরআন-হাদিস থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ফিকহে ইসলামি বিমুখ যারা, তারা কখনো কুরআন-হাদিসের প্রকৃত অনুসারী হতে পারে না। ফিকহে ইসলামির দিকনির্দেশনা মোতাবিক হাদিস অনুসরণ করলেই কেবল হাদিসের অনুসারী বলা যায়। এর বাইরে যারা হাদিসের অনুসারী বলে দাবি করে, এটা কেবল তাদের মুখের দাবি। বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ফিকহের প্রতিটি মাযহাবই দ্বীন ও শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত। এই মাযহাব প্রণেতাগণ সকলেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদায় বিশ্বাসী।
এতে কোনো সংশয় বা সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। চার মাযহাবের লোকেরা যখন নিজ নিজ মাযহাবের ইমাম থেকে শরিয়ত তথা কুরআন ও হাদিসের বিধি-বিধান সম্পর্কে জানতে ও আমল করতে চায়, তখন এটাকেই বলে তাকলিদ। এটাই তাকলিদের প্রকৃত স্বরূপ। বিভিন্ন সমস্যায় শরিয়ত-বিশারদদের শরণাপন্ন হতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই নির্দেশ দিয়েছেন। আরও নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ তাআলার প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। চার মাযহাবের মধ্য থেকে কোনো মাযহাবের অনুসারীই স্বীয় ইমামকে নবী-রাসূলের মতো ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে মনে করে না। এজন্যই ক্ষেত্রবিশেষে ইমামদের মত বিশেষ করে ইমাম আবু হানিফার কোনো কোনো মত অনির্ভরযোগ্য মনে হলে সে অনুযায়ী ফতোয়া দেয়া হয় না। গায়রে মুকাল্লিদ বা তথাকথিত আহলে হাদিসদের উদ্দেশ্যই হলো, মুসলিম জাতির মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টি করা। দৈনন্দিন জীবনে সকল সমস্যার সমাধান কারো না কারো মত অনুযায়ী গায়রে মুকাল্লিদরাও করে থাকে। আর এটাই হলো তাকলিদ। কারো তাকলিদ না করে, শুধু নিজের মত ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সব সমস্যার সমাধান কি কোনো গায়রে মুকাল্লিদ করতে পারবে?
আজকাল তথাকথিত উদারপন্থীদেরও তাকলিদের বিরুদ্ধে বেশ সোচ্চার দেখা যায়। সাহাবায়ে কেরামের মধ্য থেকে যারা স্বীয় সমস্যা বা অন্যের সমস্যার সমাধান দিতে না পারতেন, তারা তখন অন্যান্য বিচক্ষণ ফকিহ সাহাবির শরণাপন্ন হয়ে সমস্যার সমাধান জেনে আমল করতেন। সাহাবায়ে কেরামের যুগে সাধারণ তাকলিদ এবং ব্যক্তি তাকলিদের ব্যাপক প্রচলন ছিল। এর অসংখ্য প্রমাণ হাদিসগ্রন্থে রয়েছে। সাহাবিদের যুগে ব্যক্তি তাকলিদের জ্বলন্ত প্রমাণ হলো, সহিহ বুখারির এই হাদিস- যার বঙ্গানুবাদ: একবার মদিনাবাসীরা হযরত ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞেস করল, কোনো মহিলা যদি ফরয তাওয়াফের পর বিদায়ী তাওয়াফের পূর্বেই ঋতুবতী হয়ে যায়, তাহলে এই মহিলার বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে কি? উত্তরে ইবনে আব্বাস বললেন, এই মহিলা বিদায়ী তাওয়াফ না করেই বাড়ি চলে যেতে পারবে। তখন মদীনাবাসীরা বললেন, আমরা আপনার কথায় যায়েদ বিন সাবেতের মত প্রত্যাখ্যান করতে পারি না। কারণ যায়েদ বিন সাবেত বলেছেন, এই মহিলা বিদায়ী তাওয়াফ না করে বাড়ি যেতে পারবে না। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বললেন, তোমরা মদিনায় গিয়ে উম্মে সুলাইমসহ আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করো, তারা আমার মতোই উত্তর দিবে। এই ঘটনা দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, মদিনাবাসীরা হযরত যায়েদ বিন সাবেত রাদিয়াল্লাহু আনহুর ব্যক্তি তাকলীদ করতেন। কারণ তার প্রতি ছিল তাদের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস। এদিকে হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা মদিনাবাসীদের আরও কতিপয় সাহাবিকে জিজ্ঞেস করে পুনরায় হযরত যায়েদ বিন সাবেতের শরণাপন্ন হতে বললেন এবং তিনি তাদেরকে বিন্দুমাত্র তিরস্কার করেননি। এরপর তারা বিভিন্ন সাহাবিকে জিজ্ঞেস করে, যায়েদ বিন সাবেতকে জানালে তিনি তার পূর্বের মত থেকে ফিরে আসেন এবং ইবনে আব্বাসকেও বিষয়টি জানিয়ে দেন।
যারা সরাসরি কুরআন-হাদিসের মর্ম বুঝতে সক্ষম এবং যারা কুরআন-হাদিসের দৃশ্যত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারেন এবং এর নাসেখ ও মানসুখ নির্ণয় করতে সক্ষম, তারা যদি গবেষণা করতে গিয়ে দেখেন যে, কোনো স্পষ্ট হাদিস স্বীয় মুজতাহিদ ইমামের মতের বিপরীত ও পূর্ণ সাংঘর্ষিক, অপর দিকে স্বীয় ইমামের মতের স্বপক্ষে শক্তিশালী ও স্পষ্ট কোনো হাদিস নেই, তাহলে এমন বক্তিবর্গের জন্য স্বীয় ইমামের তাকলিদ ছেড়ে হাদিসের ওপর আমল করার অবকাশ আছে। তার এই কাজটি তাকলিদ বিরোধী হবে না। তাকলিদ বিরোধী ভাইদেরকে বলব, আপনারা কি পারবেন তাকলিদ ব্যতীত এই পৃথিবীতে চলতে? এটা তো কল্পনাও করা যায় না। বর্তমান যুগে যত আবিষ্কার রয়েছে, এগুলো তো কেউ না কেউ আবিষ্কার করেছে। আপনারা কি পারবেন, আবিষ্কারকদের নীতিমালা ও বিধি-নিষেধ অমান্য করে নিজেদের মনমতো এই আবিষ্কারগুলো ব্যবহার করতে? কস্মিনকালেও তা সম্ভব নয়। সুতরাং আমরা যারা সরাসরি কুরআন-হাদিস থেকে মাসয়ালা-মাসায়েল বুঝতে সক্ষম নই, আমাদের জন্য মুজতাহিদ ইমাম চতুষ্টয়ের তাকলিদ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। ইমাম চতুষ্টয়ের যে কাউকে তাকলিদ করা যায়। তবে যে কোন একজনকেই তাকলিদ করতে হবে। যাকে ব্যক্তি তাকলিদ বলে। আর এটাই কুরআন-হাদিসের ওপর আমল করার সবচেয়ে নিরাপদ পথ। ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্য থেকে ব্যক্তি তাকলিদের জন্য প্রধান ইমাম আবু হানিফাকে নির্বাচন করার সঙ্গত বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যা এখানে তুলে ধরা হলো-
জালালুদ্দীন সুয়ুতি রাহিমাহুল্লাহ তাবয়িযুস সহিফা গ্রন্থে বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম আবু হানিফা সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, ইলম যদি সুরাইয়া তারকার নিকটেও থাকে, তাহলে পারস্যবাসীদের কেউ না কেউ তা অর্জন করতে পারবে।
ইমাম চতুষ্টয়ের মধ্যে একমাত্র ইমাম আবু হানিফাই এমন ব্যক্তি, যিনি সাহাবিদেরকে দেখে এবং তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করে তাবেয়ি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। এই সৌভাগ্য অন্য তিন ইমামের ভাগ্যে জোটেনি।
পৃথিবীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মুসলমান ইমাম আবু হানিফার অনুসারী। ইমাম আবু হানিফা ১২০ হিজরি সনে তার আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগ থেকে চলে আসছিল। এই বিখ্যাত বিদ্যাপিঠের দায়িত্ব নেয়ার পরই সুয়ুতি তাবয়িযুস সহিফা গ্রন্থে বলেন, ইমাম আবু হানিফার অনেক বৈশিষ্ট্য-মর্যাদা থেকে অন্যতম হলো, তিনি সর্বপ্রথম তিনি ইলমে কালামের ভিত্তি স্থাপন করেন। সাথে সাথে ইলমে ফিকহ ও ইলমে হাদিস সংকলন করেন। জালালুদ্দীন সুয়ূতী তাবয়িযুস সহিফা গ্রন্থে বলেন ইমাম আবু হানিফার অনেক বৈশিষ্ট-মর্যাদা থেকে অন্যতম হলো, তিনি সর্বপ্রথম হাদীসসমূহ বিন্যস্ত আকারে সংকলন করেন। তার পূর্বে এ কাজটি পরিপূর্ণরূপে ও পরিপক্কভাবে আর কেউ করতে পারেননি। আর ইমাম মালেক আবু হানিফা কিতাবুল আসার অনুসরণ করে মুয়াত্তা সংকলন করেন।
মক্কা-মদিনা ও কুফা তিন স্থানের সাহাবিসহ চার হাজার ওলামায়ে কেরাম থেকে আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ হাদিস গ্রহণ করে হাফেজে হাদিস হয়েছেন। সুতরাং হানাফি মাযহাবটি অন্যান্য মাযহাব যেমন, মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাব হতে সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও নীতিমালায় প্রতিষ্ঠিত।
ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ তার মাযহাব প্রতিষ্ঠায় মদিনাবাসীদের আমলের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী ফায়সালা করেছেন। ইমাম আবু হানিফার দৃষ্টি ছিল পবিত্র কুরআনের সাথে বেশি মিল। সাথে সাথে তিনি নবীজির শেষ আমলটির প্রতি খুব লক্ষ রেখে সে অনুযায়ী মাযহাবের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি ইমাম মালেকের বিপরীত মদিনাবাসীর হোক বা কুফাবাসীর কিংবা মক্কাবাসীর হোক, নবীজির শেষ আমলকে গ্রহণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
তৎকালে অধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবিগণ মদিনা থেকে কুফায় চলে আসেন। কুফায় অবস্থানকারী সাহাবিদের হাদিস আবু হানিফা যেমন পেয়েছেন, অনুরূপ মক্কা-মদিনায় অবস্থানকারী সাহাবিদের হাদিসও সংগ্রহ করেছেন। অপর দিকে ইমাম মালেক কখনোই কুফা আসেননি। সমস্ত সাহাবির ইলম ও বিদ্যার ধারক-বাহক ছিলেন ইলমের দরজা নামে খ্যাত হযরত আলি ও হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা। তারা উভয়েই কুফাতে ছিলেন। এমনিভাবে সাহাবিদের মধ্য থেকে প্রায় দেড় হাজার সাহাবি কুফাতে অবস্থান করতেন। ইমাম মালেক এদের হাদিস তেমন সংগ্রহ করতে পারেননি। সুতরাং মদিনাবাসীদের আমল ইজমা অনুযায়ী ছিল, একথা বলা খুব কঠিন। কিন্তু এর বিপরীত ইমাম আবু হানিফার মাযহাব ছিল, ইজমা ও নবীজির সর্বশেষ আমল অনুযায়ী।
ইমাম আবু হানিফার ফিকহি মাসয়ালা তার হাতেগড়া একঝাঁক বিশেষজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের সমন্বয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিরূপণ করা হতো।
মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবের ছাত্রগণ তাদের উস্তাদের সাথে শেষাবধি ছিলেন না। তারা পরবর্তীতে স্বতন্ত্র নীতিমালায় মাযহাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু ইমাম আবু হানিফার ছাত্রগণ অন্যান্য ইমামের তুলনায় অধিক বিচক্ষণ হওয়া সত্ত্বেও তাকে ত্যাগ করে স্বতন্ত্র মাযহাব গ্রহণ করেননি।
কুরআন ও হাদিসের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও নিগূঢ় তত্ত্ব হলো ইলমে ফিকহ। এই ফিকহি চিন্তা-চেতনা পরিপূর্ণ বিকাশ একমাত্র আবু হানিফা থেকেই ঘটেছে।
সাধারণ যয়িফ তথা দুর্বল সনদে বর্ণিত হাদিসও আবু হানিফার নিকট কিয়াস এবং রায়ের মোকাবিলায় গ্রহণীয়, এমনকি তিনি সাহাবায়ে কেরামের মতামতকেও কিয়াসের
ওপর প্রাধান্য দিতেন।